খালেদার মুক্তি: দুই পক্ষের আইনজীবী যা বললেন

0

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে বলে মনে করেছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অবশ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবীর বক্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল আখ্যা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বলেছেন, এই বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

মঙ্গলবার (২৯ মে) কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ চেম্বারে স্থগিতের পর খন্দকার মাহবুব ও মাহবুরে আলম সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

যে মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হয়েছে সেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তার জামিন হয়েছে ১৬ মে। কিন্তু দুই সপ্তাহেও তার মুক্তি হয়নি আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায়।

এর মধ্যে দুটি মামলায় সোমবার বিএনপি নেত্রীকে জামিন দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। যদিও এই আদেশের বিরুদ্ধে একই দিন চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন বিচারক।

এই দুটি আবেদনের ওপর শুনানি হবে ৩১ মে বৃহস্পতিবার। একই দিন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ আসা আরও দুটি মামলায় জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশ আসবে। আজ এই দুটি আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে।

তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল আদালতে করা আরও একটি মামলায় জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়েছে সোমবার। নড়াইল আদালতেই এই আবেদন করার নির্দেশ এসেছে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করবে।’

‘সরকার চায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করবে। সেই স্বপ্ন কোনোদিনও সার্থক হবে না।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

খালেদা জিয়ার আইনজীবীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। কারণ, এই দেশে আদালত আছে। আদালত জামিন দিচ্ছেন, আবার জামিন স্থগিতও করছেন।’

‘তাদেরকে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং যে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত আছে তার ওপর নির্ভর করেই তাদের বক্তব্য দিতে হবে। যুক্তিতর্ক করতে হবে। মুখরোচক বক্তব্য দিয়ে তাদের কোনো লাভ হবে না।’

এক প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন কি পাবেন না তা আমি বলতে পারব না। কারণ আমি তো জ্যোতিষী না।’

‘এতটুকু বলতে পারি, এ ধরনের অপরাধ করে পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান কিন্তু পার পেতেন না।’

‘হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে দুটি মামলায় জামিন দিয়েছিল। এই জামিনের বিরুদ্ধে আমরা যে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ৩১ তারিখে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সে পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ