বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ ১০ সড়ক

0

নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিনিয়ত আমাদের কোনো না কোন পথ চলতে হয়। অনেক সময় আগে জানা থাকা সত্ত্বেও বিপদজনক পথটিকেই অনুসরণ করি আমরা। অনেক দ্বিধা সংশয়ের মধ্যেই পথ চলতে থাকি। কেননা জীবনের তাগিদ আমাদেরকে বিপদজনক পথ চলতে বাধ্য করে। তবে চলুন আজ এমনই দশটি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা সম্পর্কে জেনে নেই। হরহামেশাই এখানে ঘটে দুর্ঘটনা। তবুও মানুষ এই পথেই বার বার যাত্রা করে।

১. খারদুঙ্গ লা, ভারত

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গিরি পথের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত রাস্তা হলো ‘খারদুঙ্গ লা’। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং গিনেস বিশ্ব রেকর্ড অনুযায়ী এই রাস্তাটি ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা হিসেবে বিবেচিত। রাস্তাটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত। এর উচ্চতা পাঁচ হাজার ৩৫৯ মিটার। এটি ভারতের উচ্চতম গিরিপথ। ১৯৮৮ সালে এটিকে যান চলাচলের জন্য মুক্ত করে দেওয়া হয়। পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ‘সিয়াচেন’ হিমবাহের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।

২. গউলিয়াং টানেল, চীন

‘গউলিয়াং টানেল’ চীনের হেনান প্রদেশে অবস্থিত। এক হাজার ২০০ মিটার লম্বা এই সুড়ঙ্গটি পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই সুড়ঙ্গ পথের মাধ্যমে চীন হেনান প্রদেশের গউলিয়াং গ্রামের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে।

৩. ডালটন হাইওয়ে, আলাস্কা

‘ডালটন হাইওয়ে’ আলাস্কাতে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে তুষারময় ও সোজা রাস্তা হিসেবে পরিচিত। ৬৬৬কিলেমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি ১৯৭৪ সালে ট্রান্স আলাস্কা পাইপ লাইন সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। তুষারময় অঞ্চলে এর অবস্থান হওয়ার কারণে এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা হিসেবে বিবেচিত।

৪. ইশিমা ওহাশি ব্রিজ, জাপান

‘রোলার কোস্টার সেতু’ হিসেবে পরিচিত জাপানের এই সেতুটির নাম ইশিমা ওহাশি। এই শক্ত কাঠামোর খাড়া সেতুটি তৈরি করেছে জাপান। এটি ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়। নীচ দিয়ে খুব সহজে জাহাজ চলাচল করার উদ্দেশ্যে সেতুটির এইরূপ নকশা করা হয়েছে। এটি জাপানের প্রথম এবং পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর কঠিন কাঠামো দিয়ে তৈরি সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার, উচ্চতা ৪৪ দশমিক ৭ মিটার এবং প্রস্থ ১১ দশমিক ৩ মিটার।

৫. আটলান্টিক ওসেন রোড, নরওয়ে

‘আটলান্টিক ওসেন রোড’ নরওয়ে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য হল ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার। সমুদ্রের মাঝখানে বেশ কয়েকটি দ্বীপের সাথে মোট আটটি সেতু জুড়ে এই রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয় ১৯৭০ সালে। কাজ শুরু হয় ১লা আগষ্ট ১৯৮৩ সালে এবং শেষ হয় ৭ জুলাই ১৯৮৯ সালে। এটি তৈরি করার সময় ১২টি বৃহৎ সামুদ্রিক ঝড়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ২০০৯ সালে এটিকে ‘নরওয়ে কনস্ট্রাকশন অফ দ্যা সেঞ্চুরি’ পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। বর্তমানে এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি জায়গা।

৬. জোজি লা, ভারত

‘জোজি লা’ পশ্চিম হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে শ্রীনগর হতে লেহ যাওয়ার ১ডি নং জাতীয় রাস্তার ওপর অবস্থিত। এই রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে লাদাখ ও কাশ্মীরের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করার জন্য। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার। এটি প্রায় ৯৫২৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। এই সড়কটি এতটা সংকীর্ণ যে এখান থেকে যেকোন গাড়ি যেতে সংকোচ বোধ করবে। প্রতি বছর ছয় মাস প্রচন্ড তুষারপাতে জোজি লা’তে বরফ জমে থাকে। লেহ সড়কপথ তখন সমগ্র দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০০৮ সালে এখানে প্রায় ১৮ মিটার তুষারপাত হয়। প্রতি বছর বসন্তকালে সীমান্ত সড়ক সংস্থা এই স্থানের বরফ পরিষ্কার করে জুনের শুরু থেকে নভেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত ১ডি নং জাতীয় রাস্তাটি খোলার ব্যবস্থা করে।

৭. হানা, হাওয়াই

‘হানা’ হাইওয়েটি হাওয়াই দ্বীপে অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরের তীর বরাবর প্রবাহিত এক অপরূপ রাস্তা এটি। এর দৈর্ঘ্য ১০৩ কিলোমিটার।

৮. কলিমা, রাশিয়া

‘কলিমা’ সড়কটি রাশিয়াতে অবস্থিত। এটি ‘মৃত্যু রাস্তা’ নামেও পরিচিত। ১৯৩২ সালে রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। তখন রাস্তাটির প্রথম অংশ কারাগারের বন্দিদের দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এই রাস্তার কাজ শেষ করতে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল।

৯. লে প্যাসেজ ডি গইস, ফান্স

‘লে প্যাসেজ ডি গইস’ রাস্তাটি ফ্রান্সে অবস্থিত। রাস্তাটি তৈরি সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে কিছু ঘন্টা পরই এটিকে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ, সেসময় রাস্তাটি সম্পূর্ণ রূপে নদীর মধ্যে তলিয়ে যায়। জানা যায়, রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪.১২৫ কিলোমিটার।

১০. ট্রান্সফার্গাসন, রোমানিয়া

এই রোমাঞ্চিত ও ভয়ংকর রাস্তাটি রোমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থতি। কয়েক বছর আগে এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের দর্শনীয় রাস্তা গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ভয়ংকর হলেও রমণী‘র কার্লি চুলে মতো আঁকাবাঁকা ট্রান্সফার্গাসন রাস্তাটি ভ্রমণ পিপাসুদের মন কাড়ে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ