ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলেন প্রয়াত শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম

0

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আরো একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অকালে চলে গেলেন এ পৃথিবী ছেড়ে। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলামও হটাৎ করেই চলে যান এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। অনেকটা সেভাবেই আমাদের মাঝ থেকে সবাইকে হতবাক করে দিয়েই চলে গেলেন শফিকুল ইসলাম তিনি।

আমের রাজধানী উত্তর বঙ্গের প্রাচীন গৌড় নগরী চাঁপাইনবাবগঞ্জ নানা দিক থেকে সমৃদ্ধ। শুরুর পর যেমন শেষ আছে ঠিক তেমনি ভালোর পরেই রয়েছে মন্দ। তবে মানুষের কাছেই সব কিছু। আপনি যেমন কাজ করবেন তেমন ফল পাবেন এটাই বাস্তব সত্য। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নতি আর আধুনিকতার ছোঁয়া আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জেও লেগেছে। দিন দিন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড় হচ্ছে শহরের পরিধি। দিন দিন নতুন নতুন গ্রামের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সব কিছুর পরেও কিছু সমস্যা থেকেই যায়।

এ রকম সমস্যার মধ্যে বাল্য বিবাহ একটি অন্যতম জাতীয় সমস্যা। বাল্য বিবাহের কারণে অনেক পরিবারে নেমেছে অন্ধকার। মা হতে গিয়ে অনেক গর্ভবতী মারাও গেছে। অসেতনতার কারণে নষ্ট হয়েছে উঠতি বয়সের তরুণীরা, বন্ধ হযেছে লেখাপড়া। বাল্যবিবাহ কোনো সুফল বয়ে আনে না। আনে শুধু অশান্তি আর কষ্ট। তাই আর যেন একটিও বাল্য বিয়ে না হয় সে জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রধান কর্তাব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জে যোগদান করেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠে নামেন এবং বেশ কিছু বর-কনে তাদের আত্মীয়স্বজনকে শাস্তিও দেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিবগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বাল্য বিবাহমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি এবং বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ও শতভাগ স্কাউটিং উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গত মে মাসে বিকেল ৩ টায় শিবগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এ ঘোষাণা দেওয়া হয়।

শতভাগ স্কাইটিং, বাল্য বিবাহমুক্ত শিবগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা এবং বাল্য বিবাহ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান মো. শফিকুল ইসলাম। সেই শপথবাক্যে তিনি বলেন আজ থেকে শিবগঞ্জ উপজেলায় আর যেন একটিও বাল্যবিয়ে না হয়। এজন্য তিনি সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানান।

বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়ত এত বড় বাল্য বিবাহ বিরোধী শপথ হয়নি কোনো দিন। বিশাল আধুনিক ও ডিজিটাল প্রজেক্টর ও ডিজিটাল বড় পর্দায় আছাদিত মঞ্চে ঘোষণা দেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম আরো ঘোষণা দেন যে, আজ আপনারা আরো একটি ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন। এরপর তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ হোসেন খান, সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, শিবগঞ্জ পৌর মেয়র এ আর এম আজরী মোহাম্মদ কারিবুল হক রাজিন, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হকসহ স্কাউট সদস্যদের নিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান। মাঠের গ্যালারীর হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেন একযোগে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল শিবগঞ্জ উপজেলার স্টেডিয়াম মাঠ।

সেদিন তিনি লক্ষ জনতাকে বাল্য বিবাহ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, আমরা শপথ করছি যে, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকব। সরকার ও রাষ্ট্র কতৃক প্রণীত বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন যথাযথ ভাবে মেনে চলব। আমরা নিজ পরিবারের কাউকে বাল্য বিবাহ দেব না। আমাদের সমাজে কোন বাল্য বিবাহ হতে পারবে না। যে কোন মূল্যে আমরা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করব। আজকের ঐতিহাসিক এ দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। সব কিছুই থেকে গেল আগের মতই শুধু না ফেরার দেশে চলে গেলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল সবার প্রিয় নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ