অনেক ওপরে আমার যোগাযোগ আছে …………… টিএসআই আব্দুল আজিজ

0

আস্তসাত

অনেক ওপরে আমার যোগাযোগ আছে
দম্ভ টিএসআই আব্দুল আজিজের

ময়মনসিংহ শহরের রমেশসেন রোডে যৌন পল্লীর নিয়ন্ত্রক ময়মনসিংহ শহর ১নং ফাঁড়ি পুলিশের টিএসআই আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যসহ গণমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয় । এসব সংবাদ প্রকাশের পর দম্ভোক্তি করে টিএসআই আব্দুল আজিজ বলেন, পত্রিকায় লিখে লাভ কি ‘ অনেক ওপরে আমার যোগাযোগ আছে। আমার কিছুই হবে না।’ সত্যিই তার বিশাল ক্ষমতা। যে কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে দুর্নীতি , অনিয়ম, যৌনপল্লীতে কোটি টাকার বাণিজ্যের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টো তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে । পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র বলছে, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেলেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অথচ টিএসআই আব্দুল আজিজ আছেন বহাল তবিয়তে ।

পতিতাপল্লীর নারীরা তাকে নিয়ে যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তখন তার কুকির্তী ধামাচাপার চেষ্টা চলছে । গত ২ আগস্ট টিএসআই আব্দুল আজিজ যৌনপল্লীতে ইউনিফর্ম পরে মদ খেয়ে মাতলামি করে পতিতাদের ধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন এমন তথ্য জানিয়েছেন একজন যৌনকর্মী । যৌনপল্লীতে সাহিদা বেগম নামের একজনকে জিম্মী করে তার সাথে রাত কাটান আব্দুল আজিজ । পরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঞ্চিত টাকা- পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব আত্মসাত করেন আজিজ ।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। উল্টো তাকে বাঁচাতে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এনিয়ে আজো গঠন করা হয়নি কোন তদন্ত কমিটি । অভিযোগ রয়েছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ময়মনসিংহ শহর ফাঁড়ি পুলিশে কনস্টেবল এরপর হাবিলদার এটিএসআই এখন ১নং ফাঁড়ি পুলিশে টিএসআই হিসাবে কর্মরত আছেন আব্দুল আজিজ ।

শহরের বিভিন্ন স্থানে তিনি জমি জমাও কিনেছেন । যৌনপল্লীর মাদক ব্যবসার স্পটগুলি থেকে মাসোয়ারা আদায়, সেখানকার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের ছাড়া-ধরাসহ বিভিন্নভাবে তার মাসিক আয় দশ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মামলা-হামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করবেন বলে হুমকি দেন তিনি। এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পায় না। জানা গেছে, যৌনপল্লীতে প্রতিদিন ৩ লাখ টাকার বেশি মাদক বিক্রি হয় ।

এরমধ্যে হেরোইন, ইয়াবাও রয়েছে । বাংলামদে পানি মিশিয়ে বিক্রি করা হয় । এসব কাজও পরিচালনা করেন টিএসআই আব্দুল আজিজ । তবে এটি তিনি করান তার নিয়োজিত দালালের মাধ্যমে । যৌনপল্লীতে তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে অপরাধ জগতের সবই করান তিনি । বিনিময়ে লুফে নিচ্ছেন প্রতিদিন প্রতিরাত মোটা অংকের টাকা । এক যৌনপল্লী থেকেই সারা শহরে মাদক সরবরাহ করে এই দালালরা । অপরদিকে গত বছরের আগস্টে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় যৌনপল্লী থেকে ২২ কিশোরীকে উদ্ধার করে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি । তখন অভিযোগ উঠে, ১নং শহর ফাঁড়ি পুলিশের টিএসআই আব্দুল আজিজের মাধ্যইে এই কিশোরীরা যৌনপল্লীর অন্ধকার গলিতে পদার্পন করে । শুধু এই ২২ জনই নয় । গত ১১ বছরে এই যৌনপল্লী থেকে ৩৯ জন শিশু- কিশোরীকে বিক্রি করা হয়েছে ।

২০০৮ সালে সরকারি এক কর্মকর্তা স্ত্রীকেও এখানে বিক্রি করা হয় । এসব সবই হয় টিএসআই আব্দুল আজিজের মাধ্যমে । তিনিই চক্রের মূল হোতা । বিভিন্ন গার্মেন্টেসে কর্মরত নারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফুঁসলিয়ে এই যৌনপল্লীতে বিক্রি করা হয় । প্রতিটি মেয়ে বিক্রি হয় ৮০ হাজার টাকা থেকে ১লাখ টাকা পর্যন্ত । আবার সুন্দরি মেয়ে হলে এর দাম ২ লাখ অথবা এরও বেশি । এই বেঁচা কেনার টাকার অংশের সিংহভাগই পান আব্দুল আজিজ ।এখানেই শেষ নয় । যৌনপল্লীতে বিক্রি হওয়া এই নারীদের প্রথমে বেঁধে চরম নির্যাতন করা হয় । ঐসব মেয়েরা প্রথমে ভোগের শিকার আব্দুল আজিজের । পর্যায়ক্রমে তার নিয়োজিত দালালরা ।

এরপর যৌনপল্লীর কথিত ভিআইপি কাস্টমার । এই কাস্টমাররা রাতভর আমোদ- প্রমোদ করেন যার বিনিময়ে আব্দুল আজিজকে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নাজরানা । যৌনপল্লীতে আনা নারীদের প্রথমে মোটাতাজা ও সুন্দরী হওয়ার ক্ষতিকারক ওষুধ খাওয়ানো হয় । খাওয়ানো হয় যৌনউত্তেজক ট্যাবলেটও । যার কারনে এই ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় একসময় তারা শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলে । ময়মনসিংহের প্রবীণ আইনজীবি আব্দুর রউফ খান বলেন, যৌনপল্লী থেকে নাবালিকা মেয়ে উদ্ধার করা হলেও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজও কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না । যা খুবই দু:খ জনক । যৌনপল্লীর সাহেলা বেগম জানান, আব্দুল আজিজ ব্ল্যাক মেইল করে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করান । এখন এখান থেকে আমাকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে । যৌনপল্লী নিয়েই দিন রাত কাটে আব্দুল আজিজের । তার নেতৃত্বে কোন মাদক ব্যবসায়ী , মাদকসেবী এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন নজির নেই । অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল আজিজের নিয়োজিত দালালরা যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ করান । পরে ঐসব অভিযোগ দেখিয়ে যৌনকর্মীদের সারাবছরের সঞ্চিত টাকা হাতিয়ে নেন । এই করে প্রতিটি যৌনকর্মীর নিকট থেকে সর্দারনীর মাধ্যমে ২ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় । এত কিছুর পরও টিএসআই আব্দুল আজিজের দম্ভোক্তি, আমার কাজই যৌনপল্লী নিয়ন্ত্রন করা । আমি আমার উর্ধ্বতন অফিসারদের ম্যানেজ করেই এসব করি । তাদের বাড়িতে বাজার- সদাই পাঠাই । তাই আমি কারো পরোয়া করি না, আমার ইচ্ছে মতো আমি কাজ করব, কেউ আমাকে বদলি করতে পারবে না, কারো বেল নেই।

’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিএসআই আব্দুল আজিজ ১নং ফাঁড়ি পুলিশে এবং দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ শহরে চাকুরির সুবাদে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। যৌনপল্লীতে লুকিয়ে থাকা জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, ডাকাত, হত্যা মামলার আসামিসহ অপরাধীদের সঙ্গে তিনি সু-সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বেশ কয়েকটি এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে এই টিএসআইয়ের সখ্য থাকায় অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বেড়ে গেছে। তার এসব কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ ক্ষোদ ময়মনসিংহে কর্মরত প্রায় সব পুলিশ সদস্যই। যদিও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের ২ জন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে বলেন, কতদিন ধরে তিনি ময়মনসিংহে আছেন তা জানা নেই। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ