দেবর-ভাবীর পরকীয়ায় প্রাণ হারাল বালুগ্রামের ইউসুফ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বালুগ্রাম মোড়ের তাইফুর রহমানের ছেলে ইউসুফের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ‘স্বাভাবিক’ মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার সকালে দাফন করা হয় পারিবারিকভাবে। দাফনের পর থেকেই মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকাব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সোমবার দৈনিক চাঁপাই চিত্রে ‘বালুগ্রামে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের দিন রাতেই অভিযুক্ত স্ত্রী মদিনা ও ছোট ভাই ইউনুসকে আটক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন- এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মৃতের স্ত্রী মদিনা ও তার ভাই ইউনুস তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন নিহতের স্ত্রী মদিনার সঙ্গে তার ছোট ভাই ইউনুসের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। আর এরই জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, নিহত ইউসুফ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিদেশে কর্মরত। আর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ইউনুস প্রায় ৮ বছর ধরে বিদেশে কাজ করতেন। নিহত ইউসুফের বিবাহিত স্ত্রী মদিনা একই সাথে দুই ভায়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই ভায়ের অর্জিত অর্থ সম্পদ ভোগদখল করতে দেবর ইউনুসের দুইবার বিয়ে হলেও নানা কৌশলে ডিভোর্স করিয়েছেন অভিযুক্ত মদিনা। দুই ভায়ের আয় করা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও সম্পদ সবই রয়েছে মদিনার নামে।
নিহত ইউসুফের বাবা তাইফুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ছেলে ইউসুফের গলায় এবং হাতে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। তিনি তার ছেলে মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড অভিহিত করে অভিযুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের মা রুমালী বেগম ও বোনেরা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। প্রতিবেশিরা বলছেন এক ছেলের হত্যাকাণ্ডে অন্য ছেলে জড়িত, তাই হত্যাকারি ইউনুসকে বাঁচাতে মা-বোনেরা সত্যকে গোপন করছেন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইদ্রিশ আলী জানান, ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দেবর-ভাবী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তারা জানায়, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িত ছিল। আগস্ট মাসের শুরুতে ইউনুস দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর এ হত্যার পরিকল্পনা করে দেবর-ভাবী। অবৈধ মেলামেশার উদ্দেশ্যে বাড়ীর দুই ঘরের মাঝাড়ের ওয়ালের ইট খুলে গোপন পথ করে রেখেছেন তারা। সেই পথ দিয়েই দেবর ও ভাবী একে অন্যের ঘরে যাতায়াত করত এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকত। ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘাতক ইউনুস গোপন পথ দিয়ে ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ইউসুফের মুখে বালিশ চেপে ধরে ছোট ভাই ইউনুস আর ভাবী মদিনা তার স্বামীর দুই পা চেপে ধরে হত্যা করেন। এরপর মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য গলায় গামছা বেঁধে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর মৃত্যু নিশ্চিত হলে তাকে বিছানার নির্ধারিত জায়গায় শুইয়ে দেয়া হয়। এরপর দেবর ইউনুস গোপন পথ দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রাত ৩টা পর্যন্ত লাশের পাশে শুয়ে থাকে ঘাতক স্ত্রী মদিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৩টার দিকে মদিনা চিৎকার চেচামেচির অভিনয় করে লোক জানাজানি করে। গলায় দাগ বোঝা যাচ্ছিল তাই তাড়াহুড়ো করে লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানায় ঘাতক স্ত্রী মদিনা। ইউনুস তার দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, এর আগেও ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্য ঘুমের ওষুধ কিনে দেয় ভাবিকে। এতে মৃত্যু না হওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে বালিশ চাপা দিয়ে পরে তীরের সাথে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে ইউসুফের মৃত্যু নিশ্চত করে দেবর-ভাবী।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ