ময়না তদন্তের জন্য ইউসুফের মরদেহ উত্তোলন

0
ময়না তদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালুগ্রাম মোড়ের তাইফুর রহমানের ছেলে ইউসুফের মরদেহ দাফনের ৬ দিন পর উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বালিয়াডাঙ্গা গোরস্থান থেকে তার মরদেহে উত্তোলন করা হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ইউসুফের মরদেহ উত্তোলনের সময় আদালতের নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা
প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ইদ্রিশ আলী, উপ-পরিদর্শক জিন্নাতুল ইসলাম, নিহতের বাবা তাইফুর রহমান, পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা  উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ইদ্রিশ আলী জানান, বালিয়াডাঙ্গা গোরস্থান থেকে মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। নিযুক্ত মেডিকেল বোর্ড ইউসুফের মরদেহের ময়না তদন্ত করে। এরপর মরদেহ বিকেল ৫টায় আবারও দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য: স্ত্রী আর ছোট ভাই ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে ইউসুফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এটিকে ‘স্বাভাবিক’ মৃত্যু বলে পর দিন সকালে পারিবারিকভাবে দাফন করে। দাফনের পর থেকেই মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকাব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর একটি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে পুলিশ। খবর প্রকাশের দিন অভিযুক্ত স্ত্রী মদিনা ও ছোট ভাই ইউনুসকে আটক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলে তাদের স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দির জন্য আদালতেও নেয়া হয়। ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দেবর-ভাবী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। মঙ্গলবা (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুসসালাম জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তারা বলেন, ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘাতক ইউনুস গোপন পথ দিয়ে ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ করেন।
এ সময় ইউসুফের মুখে বালিশ চেপে ধরে ছোট ভাই ইউনুস আর ভাবী মদিনা তার স্বামীর দুই পা চেপে ধরে হত্যা করেন। মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত করতে গলায় গামছা বেঁধে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর মৃত্যু নিশ্চিত হলে তাকে বিছানার নির্ধারিত জায়গায় শুইয়ে দেয়া হয়। এরপর দেবর ইউনুস গোপন পথ দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রাত ৩টা পর্যন্ত লাশের পাশেই শুয়ে থাকেন ঘাতক স্ত্রী মদিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৩টার দিকে মদিনা চিৎকার চেঁচামেচির অভিনয় করে লোক জানাজানি করেন। গলায় দাগ বোঝা যাচ্ছিল তাই তাড়াহুড়ো করে লাশ দাফন করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ