নির্বাচনকে ঘিরে অরাজকতা নিয়ন্ত্রনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

0
ফারুক আহমেদ চৌধুরী:
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা, জঙ্গী দমনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। পেশাগত সাফল্যের কারণে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনেও সক্ষম হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক
পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ এবং ভয়াবহ মাদক প্রতিরোধে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামের সময়োযোগী পদক্ষেপ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র যে কোন অরাজকতা নিয়ন্ত্রনে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা পুলিশ।পুলিশের নির্ভর যোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অরাজকতা নিয়ন্ত্রনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে মন্তব্য করে সূত্রটি জানায়, খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রেতাদের ধরতে
শীঘ্রয় অভিযান পরিচালনা করা হবে। সুত্রটি বলছেন, বিগত দিনে এ জেলায় যারা পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিছে তারা আজ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে চিহ্নিত
অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য সচিব সামিউল হক লিটন জানান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও অপরাধ দমনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পুলিশের ট্রেডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। পেশাদারিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এই বাহিনী জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে জনগণের
গর্বের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে আপাতত তিনটি চ্যালেঞ্জ – প্রথমত, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা; দ্বিতীয়ত, গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করা; তৃতীয়ত, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল করা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে রাজপথ বেশ উত্তপ্ত হতে পারে। এ বিষয়টিও আমাদের নজনদারির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা অরাজকতার চেষ্টা করবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। অপরাধী যে দলেরই হোক নৈরাজ্য বা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে তা দমন করা হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক প্রতিরোধ, জুয়া, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন সকল ক্ষেত্রে পুলিশের যে ভূমিকা তার চেয়ে জনগণের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। যে কোনো অপরাধ নির্মূল করতে হলে পুলিশ ও জনতা মিলে কাজ করতে হবে। তাহলে সমাজে আর কোনো অপরাধ থাকবে না বলে মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার।

  • সূত্র : চাঁপাই চিত্র 
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ