ড. কামালের পেছনে কে?

0

ড. কামাল হোসেন সবাইকে ধমকাচ্ছেন। আজ নির্বাচন কমিশনে বৈঠকে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধমকাচ্ছেন। বলেছেন, আপনারা কিছুই করছেন না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কীভাবে!’ এর আগে গতকাল ১৬ ডিসেম্বর ড. কামাল হোসেন পুলিশের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে টেলিফোনে ধমকান। ড. কামাল হোসেন ঐ কর্মকর্তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। বলেন,‘ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ১৪ ডিসেম্বর ড. কামাল হোসেন যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ভাস্করকে ধমকান। তাকে চিনে রাখার হুমকি দিয়ে বলেন,‘কত টাকা পেয়েছো প্রশ্ন করার জন্য।’ এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ড. কামাল প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরও সাবধান হয়ে যেতে বলেন।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, ড. কামাল হোসেন সবাইকে শাসাচ্ছেন কেন? ধমক দিয়ে কথাই বা বলছেন কেন? তিনি কথায় কথায় ‘খামোশ’ বলছেন। ড. কামাল হোসেন কোত্থেকে এই সাহস পাচ্ছেন? তার পেছনে কে?

ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করছেন না। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি, জামাত, ফ্রন্ট একযোগে নির্বাচন করছেন। তার শক্তি কি তাহলে বিএনপি-জামাত? ড. কামাল কামাল জানেন, তাঁর পেছনে শক্তিশালী ক্যাডার এবং সংগঠন আছে। এ জন্য কি তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বিএনপি জামাতের জোটে ড. কামাল এতো ‘সাহসী’ হয়ে উঠবেন না।

ড. কামাল হোসেনের পিছনে রয়েছে এদেশের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ। যারা বিরাজনীতিকরণের পক্ষে। এদের জোরেই কি ড. কামাল হোসেন সবাইকে গালি দিচ্ছেন? কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের সুশীলরা ভীরু এবং কাপুরুষ। তাদের জোরে ড. কামাল ‘বলবান’ হলে বহু আগেই হতেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী একটি ইংরেজী এবং একটি বাংলা দৈনিক সরাসরি ড. কামাল হোসেনের পক্ষে। কোন রাখঢাক না রেখেই ড. কামালের পক্ষে তারা আদাজল খেয়ে লেগেছেন। কিন্তু এই সংবাদপত্র দুটি আগাগোড়াই ভুল রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক। তাই লাঠি ছেড়ে তাদের উপর ভর করার মানুষ ড. কামাল হোসেন নন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই ক্রিয়াশীল কয়েকটি বিদেশী রাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার নির্বাচনে কোনো রাখঢাক না রেখেই মাঠে নেমেছে। ড. কামালের সঙ্গে প্রতিদিনই যোগাযোগ রাখছে মার্কিন দূতাবাস। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নও ড. কামাল হোসেনের প্রতি সহানুভূতিশীল। বাংলাদেশে ড. কামাল হোসেনকে অনেকে মার্কিন এজেন্ট বলে সম্বোধন করেন। সমালোচকরা বলেন, ড. কামাল যতোটা না দেশের প্রতি অনুগত, তার চেয়ে বেশি বিদেশী প্রভুদের প্রতি। তাই ড. কামালকে তারা সবসময়ই আশ্রয় প্রশ্রয় দেন। তাহলে কি এসব বিদেশী রাষ্ট্রের সমর্থনেই ড. কামাল এত ক্ষমতাবান? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু বিদেশীদের সাহায্যে এতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করার মানুষ ড. কামাল হোসেন নন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. কামাল হোসেনের পেছনে কেউ আছে। যারা নেপথ্যে থেকে তাকে কলকাঠি নাড়াচ্ছেন। অথবা কিছুই নয়, স্রেফ তাঁর একটি বার্ধক্যজনিত রোগ। বুড়ো বয়সে মানুষ এরকম অস্থির আচরণ করে। কোনটা সত্য তা বোঝা যাবে ৩০ ডিসেম্বরের পর।

বাংলা ইনসাইডার/

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ