বছরের সেরা নায়িকা কে?

0

অনেকগুলো কারণে জয়া সবার থেকে এগিয়ে থাকবেন। তার অন্যতম প্রধান কারণ রানু চরিত্রটি। হুমায়ূন আহমেদের দেবী উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা যখন এসেছিল, অনেকেই রানু চরিত্রের জন্য জয়াকে মেনে নিতে পারেননি। দারুণ একটা উপন্যাসের বারোটা বাজানো হবে, সতেরো বছরের রানুর চরিত্রে জয়া আহসান কেন, কতশত প্রশ্ন এসে ভীড় করে। এমনকি জয়া আহসানের বয়স নিয়েও অদ্ভুত একটা বিতর্কের জন্ম হয়েছিল তখন। একজন অভিনয়শিল্পীকে যে বয়স নয়, কাজ দিয়ে মাপতে হয়, সেটা তিনি আবার বুঝিয়েছেন। পৌনে দুই ঘন্টার এই সিনেমার মূল আকর্ষণটাই তিনি, পুরোটা সময়জুড়ে পর্দাজুড়ে দাপট দেখিয়ে রাজত্ব করেছেন। প্রতিটা সিকোয়েন্স, প্রতিটা দৃশ্যে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছিলেন। একেকটা দৃশ্যে জয়া আহসানকে দেখে চমকে উঠতে হয়েছে, কি অদ্ভুত সাবলীল অভিনয়! রানুর তাকানো, অদৃশ্য কারো সঙ্গে আনমনে রানুর কথা বলার দৃশ্যগুলো দেখে হুট করেই যেন গায়ে কাঁটা দেয়! ভয় পাবার দৃশ্যগুলোতে একদম কিছু না করেও তিনি মনে ভয় ধরাতে পারছেন, এটাকেই তো বোধহয় ‘পাওয়ার অফ অ্যাক্টিং’ বলে! তাই জয়া যে সবার থেকে বছর শেষে এগিয়ে থাকেবে সেটা বলতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। এ বছর জয়ার ‘পুত্র’ নামেও একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

এ বছর জয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি পরীমনি। পরীমনির পরিচয়টা আমাদের কাছে কমার্শিয়াল সিনেমার নায়িকা হিসেবে। ক্যারিয়ারে বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘রক্ত’ সিনেমার মারদাঙ্গা পরী, কিংবা ‘ডানাকাটা পরী’ গানের আবেদনময়ী পরী। এ বছর নতুন একটা পরিচয় তৈরী হলো তার, তিনি নিজেই তৈরি করলেন সেই পরিচিতি, তিনি স্বপ্নজালের শুভ্রা। নায়িকার খোলস থেকে বেরিয়ে কতখানি চরিত্রাভিনেত্রী হতে পেরেছেন, সেটা দেখার আগ্রহ ছিল। ভয়ও ছিল, যদি আশাভঙ্গ হয়! কিন্তু হতাশ করেননি পরী। একদম শুরু থেকেই প্রানবন্ত পরীমনি। গ্ল্যামার ছুঁড়ে ফেলে অদ্ভুত সাবলীল অভিনয় করেছেন। চেনা ইমেজ ভেঙে শুভ্রায় ঢুকে পড়েছেন, পাশের বাড়ির মেয়ে হয়ে উঠেছেন নায়িকার ইমেজ ছেড়ে। পুরো সিনেমাতে বেশ কয়েকবার রূপ বদলেছেন, কখনও তিনি প্রতিবাদী, কখনও বিদ্রোহী, কখনও ভালোবাসার কাঙাল, আবার কখনওবা আদরে গলে যাওয়া প্রেমিকা। সিনেমা জগতে এসে পরীর সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’। বলা যায়, এ বছর জাতীয় পুরস্কারের ক্ষেত্রেও পরী ও জয়ার লড়াই হতে যাচ্ছে।

জয়া ও পরীর সঙ্গে চমক হিসেবে আছে নবাগত পূজা। বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে রীতিমত অভিজ্ঞ হয়ে ওঠা পূজা বড়পর্দার জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিতে। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেন শিশুশিল্পী হিসেবে। নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয়েছিল যৌথ প্রযোজনায়, রাজ চক্রবর্তীর সহকারী অভিমন্যু মুখার্জী পরিচালিত ‘নূর জাহান’ ছবিতে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পায় ‘নূর জাহান’। ছবিটি ব্যবসায়ীক সফলতা না পেলেও পূজা প্রশংসিত হয়েছেন। সে স্বাক্ষর তিনি আবারও রেখেছেণ ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘পোড়ামন টু’ ছবির মাধ্যমে। কয়েক সপ্তাহ আগে মুক্তি পেল ‘দহন’ সিনেমা। আর মাত্র তিনটি ছবিতে নায়িকা হিসেবে তার কাজ দেখার পরই মোটামুটি নিঃসন্দেহ সকলে বলে যে, পূজাই হলেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে পূজার চেয়ে প্রতিভাবান আর কোন নায়িকা নেই।

ছোট পর্দার অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। কিন্তু এ বছর ৩ টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আসছে সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে ‘স্বপ্নের ঘর’ সিনেমা। ভৌতিক ধাঁচের সিনেমায় মম মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কেমন হয় সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে মম এ বছর সবচেয়ে প্রশংসিত হয়েছে ‘আলতাবানু’ সিনেমায় আলতা চরিত্রে অভিনয় করে। ছবিটি ব্যবসায়ীক সফলতা না পেলেও মমর চরিত্র প্রশংসিত হয়েছে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এ সিনেমাটি যে জাতীয় পুরস্কারের দৌড়ে ভালো করবে সেটা বলা যাচ্ছে। পাশাপাশি মমও পুরস্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দহন সিনেমায় মমর সাংবাদিক চরিত্রের জন্যও এ বছর আলোচনায় ছিলেন।

মাহিয়া মাহী এক জান্নাত সিনেমায় কিছুটা আলোচনা তৈরী করতে পেরেছিলেন। কিন্তু তার চেয়ে এ বছরের অন্যান্য সিনেমার জন্য হয়েছেন সমলোচিত। বুবলী শাকিবের সঙ্গে জুটি হয়ে সিনেমা করেছেন। নানা কারণে বুবলি ছিলেন সমলোচিত। সেক্ষেত্রে সিনেমাতেও তিনি নতুন কিছু দেখাতে পারেননি। নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, অপু বিশ্বাসরা এককথায় ছিলেন না বললেই চলে। হাতেগোনা এক কিংবা দুইটি সিনেমায় এসেছেন তাদের মত আলোচিত নায়িকারা। নুসরাত ফারিয়া তার গানের ভিডিও নিয়ে ছিলেন সমলোচিত। ববি ‘বিজলী’ সিনেমা মুক্তিতে কিছুটা আলোচনায় ছিলেন। তারচেয়েও আলোচনায় ছিলেন শাকিব খানের বিপরীতে ‘নোলক’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। যদিও সে সিনেমা এ বছর মুক্তি পায়নি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ