বাখের আলী সীমান্তে বেপরোয়া গরু পাচারকারী সিন্ডিকেট

0

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধপথে আসা ভারতী গরু-মহিষের বৈধতা দিচ্ছে বাখের আলী বিট খাটাল কৃতপক্ষ। সরকারি নীতিমালা অমান্যকরে অবৈধভাবে চলমান এই বিট খাটালটিতে প্রবেশ করছে চোরাইপথে আসা ভারতীয় গরু-মহিষ। ভারত থেকে আসা এসব গরু-মহিষের মূল্য পরিশোধ হচ্ছে হু-ির মাধ্যমে। প্রতিমাসে হুণ্ডির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে শতকোটি টাকা । ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠছে হু-ি ব্যবসায়ীরা। বিট খাটালের কারণে চোরাকারবারিরা প্রশ্রয় পেয়ে যাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ছিনতাই চাঁদাবাজির মত বিভিন্ন অপরাধ। সোমবার শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে জেম আলি নিহত হয়েছে। নিহত জেম আলি বাংলাদেশী একজন গরুর রাখাল । আর এর জন্য বিএসএফকে দায়ী করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেÑ চরবাগডাঙ্গা ও বাখের আলী বিওপির অধিনস্থ সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিনই অবৈধপথে গরু আসছে। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে এসব গরু আনছে চোরাকারবারিরা। আর অবৈধভাবে চলা বাখের আলি বিট খাটাল কতৃপক্ষ দিচ্ছে এসব গরু-মহিষের বৈধতা। প্রায় প্রতিদিনই গরু আসছে এসব এলাকা দিয়ে।

সূত্রটি জানিয়েছে, অবৈধ পাচারকারী সিন্ডিকেটের ৩০ থেকে ৩৫ জন চোরাকারবারী সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধপথে গরু আনছেন বাংলাদেশে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাখালেরা চোরাইপথে নিয়ে আসছে গবাদিপশু। এসব গরু-মহিষের করিডর কাগজের বৈধতা দেয়ার নামে বিট খাটাল মালিকেরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। গত এক সপ্তাহে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে বিট খাটাল কতৃপক্ষ। জানা গেছে, চোরাই পথে আসা গরু থেকেও চাঁদাবাজি করছে চোরাকারবারি চক্রের মাফিয়া এনামুলের সহযোগীরা। বিট খাটাল কতৃপক্ষ ও মাফিয়া এনামুলের সহযোগীদের চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ গরু ব্যবসায়ীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেনÑ গরু পাচারকারিদের মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করছে মাদক দ্রব্য। ফলে মাদক বিরোধি চলমান অভিযানেও মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সীমান্ত এলাকায় বিভিন্নভাবে আগত গবাদিপশুর বিপনন, পরিবহণ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থপনা এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য বিট স্থাপন নীতিমাল জারিকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ প্রজ্ঞাপনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিট/খাটাল হচ্ছে করিডোর/সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশুর অস্থায়ী অপেক্ষমাণ আবাসস্থল। যেখানে কাস্টমস ছাড়করণসহ অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে এসব বিট খাটালে ঘটছে উল্টো ঘটনা। প্রতিটি খাটাল যেন চাঁদাবাজির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম জানান ,সীমান্তে বিট-খাটাল স্থাপনের কারণে মাদক, অস্ত্র, হুন্ডিসহ বিভিন্ন ধরণের চোরাচালান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সীমান্তে বিট-খাটালের কারণে অনায়াসে প্রবেশ করছে মাদক আর অবৈধ অস্ত্র। তিনি বলেন, সীমান্তে যতদিন বীট-খাটাল থাকবে ততদিন এসব মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের আমদানি ও হুন্ডি মাধ্যমে অর্থ পাচার বন্ধ হবে না।

বিট-খাটালের মাধ্যমে সরকারের কিছু রাজস্ব আয় হলেও সাথে সাথে অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। গরুর সাথেই প্রবেশ করছে মাদক এতে ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে সরকারের। মাদক নির্মূলে সরকারের যে চ্যালেঞ্জ সেটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ক্ষমতার দাপটে এসব এ বিট খাটালের অনুমোদন পাচ্ছেন চিহ্নিত চোরাকারবারিরা ফলে মাদক ও অস্ত্রের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই কারণে ছিনতাই ,চাঁদাবাজির মত বিভিন্ন অপরাধও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ