রাজশাহীতে মাদকসেবনে এক পুলিশ সদস্যের কান্ড

0

**মাদকের টাকা জোগান দিতে অন্যের গাড়ির কাগজ জিম্মি**

কোন পুলিশ সদস্যের মাদক সেবন করার তথ্য মিললে তাৎক্ষণিক তার রক্ত পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াও ফৌজদারি মামলায় পড়তে হবে তাকে। গত বছর ২৪ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশ দেন সে সময়কার মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। দেশজুড়ে ইউনিটগুলোতে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানতে নারাজ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার থানা এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই আমিনুল।

এএসআই আমিনুল বলেন, আমার টাকায় আমি খাবো সে বিষয়ে সরকারকে কেনো কৌফিয়ত দেবো ? ঠিক এমন ভাবেই তার মাদক সেবনের বর্ণনা দেন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই আমিনুল। শুধু মাদক সেবনই নয় মাদক সেবনের টাকা ভাগাভাগীতে অন্যের গাড়ির কাগজ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এই এএসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কাটাখালি থানা শাহপুর সিমান্ত ফাঁড়ি এলাকার “চাচীর বাড়ি নামে খ্যাত” মাদক ব্যবসায়ীর বাসায় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই আমিনুল, ২৪ নং ওয়ার্ড রামচন্দ্র পুর এলাকার জসিম, হেতেমখাঁ এলাকার রনি, মেহেরচন্ডি এলাকার রিপন, মেহেরচন্ডি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মনিরুল ইসলাম মাদক (ফেন্সিডিল) সেবনের জন্য যান। এ সময় তিন বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে সহযোগী ৪জন মিলে ১৬০০ টাকা এএসআই আমিনুলের হাতে দিলে বাকি টাকা এএসআই আমিনুল দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন বোতল ফেন্সিডিল নেন এবং তা পাশের বাগানে ৫জন মিলে সেবন করেন। পরে বুধবার সন্ধায় ২৪ নং ওয়ার্ড রামচন্দ্র পুর এলাকার জসিমকে কৌশলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ডেকে নিয়ে জসিমের ব্যবহৃত কালো রংএর পালশার মটরসাইকেল এর কাগজ কেড়ে নিয়ে এএসআই আমিনুল বলেন চাচীর বাড়িতে মালের (ফেন্সিডিলের) দাম দিয়েছিলাম ! ঐ ৮০০টাকা দিয়ে গাড়ির কাগজ নিয়ে যেতে বলেন ।

এ বিষয়ে এএসআই আমিনুলের সাথে মুঠো ফোনে কয়েক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি বার বার বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়িতে সামনা সামনি কথা বলার জন্য ডাকেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাটাখালি থানা শাহপুর সিমান্ত ফাঁড়ি এলাকার চাচীর বাড়ি নামে খ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর বাসায় এএস আই আমিনুলের মাদক সেবন ও মাদক সেবনের টাকা ভাগাভাগীতে অন্যের গাড়ীর কাগজ আটকে রাখার বিষয়ে আমি কিছু জানি না । যদি সে এমনটি করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জসিমের ব্যবহৃত মটরসাইকেল এর কাগজ ফেরৎ দেননি এ এস আই আমিনুল ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ