সেনা মোতায়েনকে আগাম স্বাগত জানালো কামাল ও ফখরুল

0

নির্বাচনের প্রবল হাওয়া এখন দেশজুড়ে। ভোটযুদ্ধে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো । নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে রবিবার রাত থেকে নির্বাচনী মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার দাবি ছিল বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। তবে নির্বাচন কমিশন সে দাবি না মানলেও সেনা মোতায়েনকে তাৎক্ষনিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার বিকেলের মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে সেনা মোতায়েনকে।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর – আইএসপিআর জানিয়েছে প্রতি জেলায় এক ব্যাটেলিয়ন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবে। তাতে করে মোতায়েন হবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩০ হাজার সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাগত জানিয়ে কামাল হোসেনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে তিনি আশা করেন যে সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বিবৃতিতে বলেছেন ‘আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি- সেনাবাহিনী নিয়োগের ফলে নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।যা এতদিন মোটেও বিদ্যমান ছিল না।’

বাংলাদেশে ভোট মানেই উৎসব। সেই উৎসব নিশ্চিত করতে একটি বড় ধরনের ভূমিকা থাকে বলে দেশবাসী বিশ্বাস করে। কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে ভোট আসলে দুশ্চিন্তায় কপালের রেখা ভাজ হয় অনেকেরই। কারণ নির্বাচনের ফলাফলের খারাপ প্রভাব পড়ে অনেকের ওপরই । সে পরাজিত প্রতিপক্ষ , ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠি , এমনকি আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল নারীসমাজও। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ভোটারের অর্ধেকই নারী। অথচ ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং সেখান থেকে নিরাপদে বাড়িতে ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে অনেকটা একতরফা। সংসদের তখনকার বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোটই হয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় সরকারের ছিল সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার। তার আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পরপরই সারা দেশে সহিংসতা দাগ কেটেছিল সবার মনে। ভোটের পরপরই আক্রান্ত হয়েছিলেন পরাজিত প্রতিপক্ষ । সবচেয়ে বেশি নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন সনাতন ধর্মের মানুষরা।

এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রায় সবগুলো দলই অংশ নিয়েছে। ফলে এখন কথা উঠেছে যে প্রচার প্রচারণায় সবদল সমান সুযোগ পাচ্ছে কিনা? যদিও বিরোধী বিএনপির প্রায় সকল প্রার্থীই প্রচার চালোনোর সময় বাধার সম্মুখীন হচ্ছে । আবার রাজধানীতে বামজোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি টেলিভিশন টক শোতে সরাসরি বলেছেন যে পুলিশও তাদের প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে ,ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে এবারের ভোট প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। তাই সংঘাত-সংঘর্ষে সাধারন ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। দেশজুড়ে এর আগেই বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। রবিবার রাত থেকে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশার ইংগিত নিসন্দেহে। তবে শুধু ভোটের আগে বা ভোটের দিন নয় , ভোটের পরেও ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা থাকে। তাই ভোটের পরেও কয়েকদিন সেনাসদস্যরা মাঠে থাকলে ভালো হয়। দলের প্রার্থী হবার জন্য নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি এখন পর্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পৌছায়নি। তাই আগামী রবিবার ভোট গ্রহনের আগে পরে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ সবার জন্য স্বাস্থ্যকর থাকবে বলেই দেশবাসী প্রত্যাশা করে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ