সেনা মোতায়েন: কার লাভ কার ক্ষতি?

0

অবশেষে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুপক্ষই স্বাগত জানিয়েছে। লক্ষনীয় ব্যাপার হলো সেনাবাহিনীকে মোতায়েনে বিএনপি রীতিমতো উল্লাস প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের আমল থেকেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের চল শুরু হয়েছে। সেনা মোতায়েনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলেও কখনো কখনো বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম করো পক্ষে , কারো বিপক্ষে গেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গেছে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে। বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল সেনারা। আবার ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিভিন্ন নেতাকর্মী ও দলের কার্যক্রমের বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছিল। ২০০১ সালে আবার সেনাবাহিনীর অবস্থান গিয়েছিল আওয়ামী লীগের বিপক্ষে। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী মোতায়েন আবার আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল। সেনাবাহিনীর ভূমিকা নির্ভর করে মাঠের ভূমিকার উপর।

দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণত যারা ক্ষমতাসীন থাকে। তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্ণীতি যখন সেনাবাহিনীর কাছে রিপোর্ট হয়। তখন সেনাবাহিনী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। সাধারন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর মৌলিক পার্থক্য হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপক্ষে পক্ষপাতের অভিযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরপেক্ষভাবে সকল দায়িত্ব পালন করে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে। সাধারন মানুষের কাছে সেনাবাহিনী এখন একটা নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে প্রতীয়মান হয়। রাজনীতিতে এখন একটি মহামূল্যবান প্রশ্ন হচ্ছে, সেনাবাহিনী যে মোতায়েন হচ্ছে, এটা কার পক্ষে যাবে এবং কার বিপক্ষে যাবে? অতীতের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, এবার সেনাবাহিনী নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের আদলে। যদিও এখন নির্বাচন হচ্ছে দলীয় সরকারের আমলে। সেনাবাহিনী সিভিল প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। এবং সিভিল প্রশাসন সেনাবাহিনীকে যে পরামর্শ এবং নির্দেশনা দেয়। সেমতেই সেনাবাহিনী কাজ করে। এবারের নির্বাচনেও সেনাবাহিনীকে কোন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হয়নি, বরং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব পালন করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না দেয়া হলেও সেনাবাহিনী যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, সিভিল প্রশাসনের পরামর্শ ব্যাতিরেকে সেনাবাহিনী এখানে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবদায়ক সরকার যদি হয়।তাহলে সিভিল প্রশাসন সবসময় নিরপেক্ষ এবং তারা বিদায়ী সরকারের উপর চড়াও হয়। এ কারণেই সেনাবাহিনীকে সবসময় বিদায়ী সরকারের উপরে একটু অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায়। এবার সেটা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সিভিল প্রশাসন কিভাবে নিদের্শনা দিবে, কিভাবে কাজ করবে এবং সিভিল প্রশাসন বিদায়ী ক্ষমতাসীনদের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করবে। এমন ভাবার কোন অবকাশ নেই। তবে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পুলিশ প্রশাসন দলীয় লেজুড়ে পরিনত হয়েছে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আগমনের ফলে বিএনপি নূন্যতম সাহস পাবে এবং মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগও মনে করছে যে, বিএনপি- জামাত নির্বাচনের আগে যে নাশকতা ও নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার পায়তারা করছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সেই ষড়যন্ত্র তারা করতে পারবে না।

সেনা মোতায়েনে দুই পক্ষই নির্বাচন কালীন সময়ে সেনা মোতায়েনকে পজিটিভ দেখছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, নির্বাচন বর্জনের যে নীল নকশা। সেই নীল নকশা বানচাল করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকবে বলে আওয়ামী লীগ মনে করছে।

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ