জেলায় অপরাধ প্রবণতা যথেষ্ট কমে এসেছে : এসপি মোজাহিদুল ইসলাম

0

১৬ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় দিচ্ছে ৫ থানা

পুলিশের কার্যক্রম, মামলার অগ্রগতি, নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম পিপিএম-বিপিএম এ প্রতিবেদককে জানান, পুলিশের জোর তৎপরতার কারণে জেলায় অপরাধ প্রবণতা যথেষ্ট কমে এসেছে। আমরা সব সময় সতর্ক থাকছি। তিনি আরো জানান, এ জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত ছিল। তবে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সাথে ক্ষমতা প্রয়োগের প্রবণতাসহ সব ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ সুপার আরো জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে আছে। জেলার কমিউনিটি পুলিশ, বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ সুশীল সমাজসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করে নতুন বছরে পুলিশ আরো ভালভাবে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে বলেও জানান টি এম মোজাহিদুল ইসলাম।

আমের রাজধানী হচ্ছে প্রাচীণ গৌড় নগরী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৭০২.৫৬ বর্গকিলোমিটার এ জেলার আয়তন। ৩টি নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫২১ জন। রয়েছে ইউনিয়ন ৪৫টি। পৌর সভা রয়েছে ৪টি। উপজেলা রয়েছে জেলায় ৫টি। শিক্ষার হার ৬৬ শতাংস। ১৬ লাখ মানুষের বসবাসের এ জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত কাজ করছে। বিশেষ করে সারা দেশে পুলিশই হচ্ছে সাধারণ মানুষের সহজ নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যম।

বিদায়ী বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দস্যুতা, খুন, নারী নির্যাতন, চুরি ও উদ্ধার জনিত খাতে মোট মামলা হয়েছে ২৩১০টি। মোট মামলার ৭০ ভাগই উদ্ধারজনিত খাতে। জেলা পুলিশের ইতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে রেকর্ড পরিমান মামলা হয়েছে উদ্ধার খাতে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাওয়া বিগত ছয় বছরের তুলণামূলক অপরাধ বিবরণীতে দেখা গেছে যে, ২০১৩ সালে উদ্ধার জনিত খাতে মামলা হয়েছিল ৪০৯ টি। ২০১৪ সালে ৫৩৪টি, ২০১৫ সালে ৯৫৪টি, ২০১৬ সালে মামলা হয়েছিল ১১১৭, ২০১৭ তে ১৩১৬টি মামলা হয়। সবশেষ অর্থ বছরে ২০১৮ সালে এ খাতে ১৫৫৩টি মামলা হয়েছে। এ-সব মামলায় মোট ২৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত বছর ৬টি দস্যুতা, ৩১টি খুন, ১০৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৩৫টি চুরি, ৮টি জঙ্গী সংগঠণ, অন্যান্য ৫৩৩টি। যার ভেতর আইনশৃঙ্খলা ৩৯, অস্ত্র ৪৮, বিস্ফোরক দ্রব্য ৫৪, মাদকদ্রব্য ১১০৫ ও চোরাচালান বিষয়ে মামলা হয়েছে ৩৪৬টি। অপরাধ বিবরণীতে দেখা গেছে, উদ্ধারজনিত খাতের মামলা ৭০ শতাংশ। ২০১৭ সালের তুলনায় কমেছে চুরি। অপরিবর্তিত রয়েছে খুনের মামলা। বছরজুড়ে পুলিশের অভিযানে ২৪ হাজার ৪৭৯ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৩ বোতল বিদেশী মদ, ২৯২ পিস ইনজেকশন, ৩টি মোটরসাইকেল, ৬টি মোবাইল ফোন, ২ লাখ ৪৭ হাজার ভারতীয় বিড়ি ও ৪৯০০টি ভারতীয় জালনোট উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৫ থানার ২০১৮ সালে ৩১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের শুরুর দিকে নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র কওে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সুন্দরপুর ইউনিয়নের আইয়ুব আলী হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া পারিবারিক কলহ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বেশি হত্যাকান্ড।

জানা যায়, বেশকিছু রহস্যজনক, চা ল্যকর ও ক্লুসেস হত্যাকান্ডের রহস্য খুব দ্রুত সময়ে উদঘাটন করে পুলিশ। পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সদর থানায় ৮টি, শিবগঞ্জ থানায় ১১টি, গোমস্তাপুর থানায় ৭টি, নাচোল থানায় ৪টি ও ভোলাহাট থানায় ১টি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। তবে গত বছরের শেষ নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কোন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেনি।
মামলাগুলোর মধ্যে শিবগঞ্জ থানার একটি মামলা পিবিআই তদন্ত করছে। সদর থানার মামলা নং-৪৪ ও গোমস্তাপুর থানায় মামলা নং-১৮ এ-দুটি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। হত্যা কান্ডের ঘটনায় অধিকাংশ মামলা এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ