সেই ওয়াহেদ ম্যানশনে সব পুড়ে গেলেও অক্ষত কোরআন-হাদিসের বই

0

সেই ওয়াহেদ ম্যানশনে – চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে ওয়াহেদ ম্যানশনের ভেতরে থাকা সব আসবাব পুড়ে কয়লা হলেও অক্ষত আছে ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিসের গ্রন্থসহ অন্য বইগুলো।

ওয়াহেদ ম্যানশনে দেখা যায়, ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের রুমগুলো আগুনে পুড়ে কয়লা হলেও দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা অনেকগুলো কোরআন শরিফ ও হাদিসের বইসহ সব বই আছে পুরোপুরি অক্ষত! বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে ভবনের ভেতর-বাইরে সব পুড়ে কয়লা, এমনকি আশপাশের ভবনও সেখানে খোদ ভবনের ভেতরেই অক্ষত আছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের বইগুলো! সেখানে থাকা একটি বইও আগুন স্পর্শ করেনি

কোরআন ও হাদিসের বই সাজিয়ে রাখা কক্ষটিতে থাকা কয়েকটি চেয়ার এবং ছোট টেবিল পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, কিন্তু বুক সেলফ ও বইগুলো আছে ঠিক আগের মতো সাজানো গুছানো! দেখে মনে হবে এখানে যেন কোনো কিছুই হয়নি।

এছাড়া ভবনটির নিচতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ফ্লোরই আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু নিচতলার একটি গোডাউনে এখনো প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ অক্ষত অবস্থায় মজুদ রয়ে গেছে। ভবনের সব ফ্লোরে আগুনের ভয়াবহতার চিহ্ন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা ভবনটি! সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে দেখা যায়, আগুনে পোড়া জিনিসপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রান্নাঘরে চুলার উপরে থাকা হাঁড়ি, কড়াই সব পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, খাবার ঘরে টেবিলে রাখা জগ, গ্লাস, প্লেট সবই পুড়ে গেছে।

এছাড়াও অবাক করার বিষয় হলো আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপার বিস্ময়ে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদ। আগুনে মসজিদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পাশে রাজমনি হোটেলের সামনের শাটার, হাড়িপাতিল ও আসবাবপত্রও পুড়ে গেলেও পুরোপুরি অক্ষত ছিল হোটেলে প্রবেশদ্বারের ওপরে লেখা কালেমা তৈয়্যবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’।

কোরআন-হাদিস অক্ষত থাকার বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ভাই, ভবনের পাশে মসজিদও তো কিছু হয়নি! পুরো একটা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো অথচ সেখানে থাকা কোরআন-হাদিসের কিছুই হলো না, এটা আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।’

‘আগুনের ঘটনার পর বাঁচার জন্য অনেকে আশপাশের ভবন ও দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ বেঁচে নেই। তাহলে আল্লাহর রহমত ছাড়া আগুনে দাউদাউ করে জ্বলা ভবনে কী করে এতগুলো কোরআন-হাদিসের বই অক্ষত থাকে? এটা আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি!’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে পাচঁতলা ভবনে আগুন লাগে। পরে আগুন আশপাশের আরো তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষমহয়। এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় অর্ধশত জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য!

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে দেশের অন্যতম ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা অনেক। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রসাধনী ব্র্যান্ড নাম ‘ক্লেরিস’। শিকাগো শহরের গ্রেসেক ইলিনয়সভিত্তিক এ কোম্পানির অন্যতম পণ্য ডেইলি বেবি লোশন। যা উৎপাদন হয় থাইল্যান্ডে।

বাংলাদেশের কোথাও এমনকি ভারতেও নেই প্রতিষ্ঠানটির কোনো কারখানা। কিন্তু চকবাজার চুড়িহাট্টার মৃত্যুপুরী সেই হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে ক্লেরিসের লোগো হুবহু নকল করেই তৈরি হতো ডেইলি বেবি লোশন।

তাছাড়া দুবাইয়ের ‘স্টারলিং’ ব্র্যান্ডের নকল পারফিউমও তৈরি হতো ওই ভবনে। চারতলা এই ভবনে থাকা বডি স্প্রে হাজার হাজার বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণেই বুধবার রাতে নিমিষেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদাসীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় এসব নকল প্রসাধনসামগ্রীর কারখানা গড়ে উঠেছে।

এ কারখানাগুলোয় বডি স্প্রে ছাড়াও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক থাকে, যা মারাত্মক দাহ্য। এদিকে দেখা গেছে, আগুনের পর হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় এখন স্তূপ হয়ে জমে আছে এসব নকল পারফিউম ও লোশনের বোতল।

যার সবই পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে অনেক বোতল আবার পড়ে আছে সামনের রাস্তায়ও। এসব বোতলে একটু চোখ বুলালেই দেখা যাবে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের হুবহু সিল।

এদিকে কনজ্যুমার অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় অন্তত ৫০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থের গোডাউন ও কারখানা রয়েছে।

সরকারের উদ্যোগসহ আমরা সেগুলো সরিয়ে নিতে বললেও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা হয়নি। পাশাপাশি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নকল পণ্য উৎপাদনের পেছনে যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ