আমিই অপরাধী না মাদ্রাসার প্রধান মিথ্যাবাদী!

0

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। দেশের প্রতিটি সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট । তবুও প্রায় প্রতিদিনই কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে লাঞ্ছিত-নিগৃহীত হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। প্রতিটি সরকারের সময়ে, সব ধরনের পরিস্থিতিতে। কখনো শারীরিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, কখনো শিকার হচ্ছেন হয়রানির। কখনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে, কখনো রাষ্ট্রের হাতে। স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসে খড়গ। হামলা, মামলা, আর হয়রানিতে দুর্বিষহ করে তোলা হয় জীবন। তবুও সাংবাদিকরা পরিণতির কথা যেনই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ পশায় টিকে থাকে।

একইভাবে রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকের সম্পর্ককে আখ্যায়িত করা হয়- জল ও মাছের সম্পর্কে। কিন্তু যতই বস্তুনিষ্ঠ হোক, নিজের বা নিজ গ্রুপের বিপক্ষে গেলেই প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েন রাজনীতিবিদরাও। তারাও হুমকি-ধমকি দেন, কর্মক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে কুটুক্তি করেন। নিজস্ব সুবিধাবাদীদের দিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু সাংবাদিকতার নৈতিকতায় সাংবাদিকরা কারো স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু হতে পারে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে তাকে দাঁড়াতেই হয়। ফলে সাংবাদিকরা হয়ে পড়েন অপছন্দের পাত্র। তাদের গলা টিপে ধরতে সচেষ্ট হয়ে ওঠেন সবাই। অথচ অপছন্দের কথাগুলো তুলে ধরতে হয় দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই।

এবার আসি আমার বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে। চাটাইডুবী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের বিধান না মেনে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষক ও নৈশপ্রহরী নিয়োগসহ নানাবিধি দুর্নীতির অভিযোগে ৯ এপ্রিল দৈনিক চাঁপাই চিত্রে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মাদ্রাসাটির শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনটি জাতীয় দৈনিক শেয়ার বিজ, মানব জমিন, অাজকালের খবর, সময়ের অালো পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে থাকা ওই অধ্যক্ষ সংবাদ প্রকাশের ৪৭ দিন পরে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে অাদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আর এ মামলা দায়েরে ইন্ধন যুগিয়েছে চোর জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকতার লেবাস ও বৈধ সাইনবোর্ডের আড়ালে চালিয়ে যাওয়া মাদককারবারিরা।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পরও মূলত আর পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আইনের এমন অপব্যবহার করছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এই মামলা শুধু আমার কলম বন্ধে নয়, গণতন্ত্র ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের পথে বিরাট প্রতিবন্ধকতা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মনগড়া মামলাটি পুলিশ তদন্তে সত্য উদঘাটন হবে। প্রযুক্তির যুগে সনাক্তকরা সম্ভব মামলায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে অভিযুক্ত আমি, বাদী ও সাক্ষীদের অবস্থান কোথায় ছিল। সেদিনই প্রমাণ হবে অামি কি সত্যি অপরাধী, নাকি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান মিথ্যাবাদী!

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ