ভিন্ন এক রাত কাটাতে ভারতের গোয়ায়!

0

বিমানের চাকা এখনো রানওয়ে ছোঁয় নি। জানালায় উঁকি দিয়েই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি প্রায়! এই বুঝি সাগরে বিমানটি নেমে পড়ছে। গোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আরব সাগরের পাশেই। আগেই জানা ছিল, এক শহরে ২০টির মতো সমুদ্রসৈকত আছে গোয়াতেই। এটাও জানি, ভারতের গোয়া রমরমা ক্যাসিনোতে ভরপুর। সঙ্গে থাকা দুই ভ্রমনসঙ্গীকে জানাতেই আমার মতো তাদেরও আগ্রহ বাড়লো। জানিয়ে রাখি-খেলবো বলে নয়, একবার শুধু দেখবো বলে।

ভারতের পশ্চিম প্রান্তের রাজ্য গোয়ায় পৌঁছেই সিদ্ধান্ত নিলাম সৈকত ও ক্যাসিনো কাছাকাছি এমন জায়গায় অবস্থান নিবো। টেক্সি চালকের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেই রওনা দিলাম। সাগর-উপসাগর ও প্রকৃতির দৃশ্যপট ডিঙিয়ে ছুটে চললাম বিমানবন্দর থেকে ৪০ মিনিট দুরুত্বের কালাঙ্গুট সৈকতে। তড়িঘড়ি করেই হোটেল চেয়ে নিলাম। বিনয়ী টেক্সিচালক জানালো কম টাকায় ভালো মানের হোটেল মিললেও খাবারের দাম চড়া। হোটেলে লাগেজ রেখে বিকাল নাগাদ খেতে গিয়েই বুঝলাম খাবারের দাম কত চড়া! দুই প্লেট ভাত, দুই বাটি ডাল সঙ্গে এক বাটি ফুলকপির সবজি। পাঁচপোড়নে ঠাসা এই খাবারের দাম ৯২০ রুপী!

সন্ধ্যায় হোটেল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে ফিরলাম ক্যাসিনোর উদ্দেশ্যে। পায়ে হেঁটেই আধা কিলোমিটার দূরের বাঘা সৈকতের তীরে একটি ক্যাসিনোর সন্ধান পেলাম। জায়গাটি ক্যাসিনো পয়েন্ট নামেই পরিচিত। এক জায়গাতেই বহু ক্যাসিনো। বুঝলাম, গোয়া মূলত বার, নাইটলাইফ, ক্যাসিনো, বীচের জন্য পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত।

বেছে নিলাম একটি। ঢুকতেই চোখে পড়লো আলোকসজ্জা। সুনসান নীরবতা। দুইপাশে সারিবদ্ধ দরজা। ক্যাসিনোতে যাওয়া পর্যটকরা চাইলে এসব কক্ষেই রাত্রিযাপন করতে পারেন। এদিক সেদিক তাকিয়ে আরো কিছুদূর এগুতেই ‘হ্যালো’ ডাক। কাছে যেতেই দুই নারী জানালেন ক্যাসিনোতে প্রবেশের আগে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। হাজার রুপী দামের প্রবেশ টিকিটের সাথে ফ্রি টি-শার্ট, রাতের ডিনার, ড্রিংকস। ভেতরে প্রবেশ করতেই নাচগান আর চারপাশে সাজানো জুয়ার আসর। লোকে লোকারণ্য সব আসর। কেউ খেলছে তো কেউ দেখছে। আবার কেউ সিট ছাড়লে মুহুর্তেই বসবে বলে অপেক্ষায় আছে। সিগারেট ফুঁকছে, ছোলা-বাদামের মিশ্রণে ড্রিং করার সাথে জুয়ায় মত্ত জুয়াড়িরা। কয়েকটি আসর ঘুরে দেখা গেলো অভিজ্ঞ জুয়াড়ি যেমন আছে তেমনি নতুন জুয়াড়িও বসেছে। ঘুরছি তো ঘুরছি। হঠাৎ উৎফুল্ল আওয়াজ!

রাত দেড়টার মধ্যেই ক্যাসিনোতে ডিনার সেরে নিতে হবে। ডিনার শেষে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ক্যাসিনোর সাময়িক বাসিন্দারা। রাতে যখন কোনো কোনো ক্যাসিনোর ভিতরে রমরমা জুয়ার আসরে মত্ত মানুষ। তখন বাইরের পরিবেশটা কেমন হতে পারে? রাত ৩টার দিকে ক্যাসিনো ছাড়তেই বাইরে আলো ঝলমলে রাস্তাঘাট। হাফ প্যান্ট আর অর্ধপোশাক পরিহিত নর-নারীরা এতো রাতেও সড়কে মাস্তি করছে। নিরাপত্তায় মোটেই ঘাটতি নেই। রাস্তার ধারে রেস্টুরেন্টগুলোতে ধুমধুম গানের তালে নেচেগেয়ে রাত কাটাচ্ছে পর্যটকরা।

এক অদ্ভুত শহর গোয়া। ১৬’শ শতকে এই শহরেই পর্তুগিজ বণিক ভাস্কো দ্যা গামা ব্যবসা করতে এসে সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। গোয়ার রাজধানী পণজী। ভাস্কো দ্যা গামা এর বৃহত্তম শহর। পুরো শহরেই সৈকত ও প্রকৃতির মেলবন্ধন থাকলেও পর্তুগিজ সংস্কৃতির প্রভাব প্রকট।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ